Posts

সূরা আন নিসা আয়াত -২৩

 حُرِّمَتۡ عَلَیۡکُمۡ اُمَّہٰتُکُمۡ وَ بَنٰتُکُمۡ وَ اَخَوٰتُکُمۡ وَ عَمّٰتُکُمۡ وَ خٰلٰتُکُمۡ وَ بَنٰتُ الۡاَخِ وَ بَنٰتُ الۡاُخۡتِ وَ اُمَّہٰتُکُمُ الّٰتِیۡۤ  اَرۡضَعۡنَکُمۡ وَ اَخَوٰتُکُمۡ مِّنَ الرَّضَاعَۃِ  وَ اُمَّہٰتُ نِسَآئِکُمۡ  وَ رَبَآئِبُکُمُ الّٰتِیۡ فِیۡ  حُجُوۡرِکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِکُمُ الّٰتِیۡ دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ ۫ فَاِنۡ  لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ ۫ وَ حَلَآئِلُ اَبۡنَآئِکُمُ الَّذِیۡنَ مِنۡ اَصۡلَابِکُمۡ ۙ  وَ اَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ  غَفُوۡرًا  رَّحِیۡمًا ﴿ۙ۲۳﴾  উচ্চারনঃ হুররিমাত ‘আলাইকুম উম্মাহা-তুকুম ওয়া বানা-তুকুম ওয়া আখাওয়া-তুকুম ওয়া ‘আম্মা-তুকুম ওয়া খা-লা-তুকুম ওয়া বানা-তুল আখি ওয়া বানা-তুল উখতি ওয়া উম্মাহা-তুকুমুল্লাতীআরদা‘নাকুম ওয়া আখাওয়া-তুকুম মিনাররাদা-‘আতি ওয়াউম্মাহা-তুনিছাইকুম ওয়া রাবাইবুকুমুল্লা-তী ফী হুজূরিকুম মিন নিছাইকুমুল্লা-তী দাখালতুম বিহিন্না ফাইল্লাম তাকূনূদাখালতুম বিহিন্না ফালা-জুনা-হা ‘আলাইকুম ওয়া হা...

সূরা ফাতিহা

  অবতীর্ণের সময় ও স্থানঃ মক্কী সূরা , নবী মুহাম্মদ-এর নবুয়াত প্রাপ্তির শুরুর দিকে নামের অর্থঃ শুরু সূরার ক্রমঃ ১ আয়াতের সংখ্যাঃ ৭ (১-৭) পারার ক্রমঃ ১ রুকুর সংখ্যাঃ ১ সিজদাহ্‌র সংখ্যাঃ নেই বাংলা উচ্চারণঃ ১. বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ২. আলহামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ লামীন। ৩. আররাহমা-নির রাহীম। ৪. মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন। ৫. ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন। ৬. ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম। ৭. সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম । গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন। আরবি উচ্চারণঃ بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَۙ(۱) الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِۙ(۲) مٰلِكِ یَوْمِ الدِّیْنِؕ(۳) اِیَّاكَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاكَ نَسْتَعِیْنُؕ(۴) اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَۙ(۵) صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ﴰ غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْ وَ لَا الضَّآلِّیْنَ۠(۷) অনুবাদঃ ১. শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। ২. যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। ৩. যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। ৪. যিনি বিচার দিনের মাল...
Image
 
Image
 

যিনা কি? যিনা কাকে বলে?

 ‼️ যিনা কারীর লজ্জা স্থানের দূর্গন্ধে জাহান্নাম বাসী অস্থির হয়ে উঠবে!‼️ ■■ যিনা কাকে বলে?  কোন কাজ গুলো যিনা?  যিনা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন এবং যিনা করার পূর্বে এই হাদীসটি একবার পড়ে নিন!! ■▪যিনা কী? ■▪শুধুই অবৈধ ভাবে মেলামেশা করাকেই যিনা বলা হয়?  ■▪না!! ●● হাদীসের ভাষায় যিনা বহু প্রকারে বিভক্ত। যেমনঃ ●▪০১। কোন বেগানা নারী অথবা পুরুষের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা! ●▪০২। যৌনতা সম্পর্কিত অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা! ●▪০৩। বিবাহ সম্পর্ক ছাড়া অবৈধ ভাবে  কাউকে স্পর্শকরা হাতের যিনা!  ●▪০৪। ব্যাভি চারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা!  ●▪০৫। সে সম্পর্কিত খারাপ কথা শোনা কানের যিনা। ●▪০৬। যিনার কল্পনা করা ও আকাংখা করা মনের যিনা! ●▪০৭। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়! -----(বুখারী, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসাঈ)! ●● অথচঃ আমরা কেবলমাত্র সর্বশেষ ধাপ টিকেই যিনা মনে করে থাকি! এবার ভেবে দেখুন আপনি এসব কাজের কোনো একটির সাথে জড়িত ননতো? ■■ যিনা স্পষ্ট হারামঃ আল্লাহ তা'আলা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেনঃ -------"তোম...

মনের মানুষ হন

 ❝এমন পুরুষ হও। যেনো কোন নারী তোমাকে পেয়ে হাজার বার রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করে!❞ 🖤 -স্বামী হওয়া খুব সহজ!! -কিন্তু মনের মতো মানুষ হওয়া কি এতো সহজ? দরজার আড়ালে স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা মানুষটাও স্বামী, খাবারে লবণ বেশি হলে প্লেট ছুড়ে ফেলে দেওয়া মানুষটাও স্বামী, পরিবারের অন্যদের পরামর্শে স্ত্রীর উপর নির্যাতন করা মানুষটাও কিন্তু স্বামী!! কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এরা কেউই মনের মানুষ না! এই পৃথিবীতে স্বামীদের কোন অভাব নেই, কিন্তু অভাব হচ্ছে একজন মনের মানুষের!!___💔 আমরা যাঁর সাথে সারাজীবন কাটাবো সে শুধু স্বামী না হয়ে, সেই মানুষটা আমাদের মনের মানুষ হোক। যার জন্য সবকিছু ছেড়ে তার বুকে মাথা লুকাবো,  সেই মানুষটা আমাদের ভরসার জায়গা হোক, সেই মানুষটা রোদে ছায়ার মতো, বৃষ্টিতে ছাতার মতো, মাথার উপর ছাদের মতো হোক। যে-ই মানুষটার কাছে থাকলে কখনো হারিয়ে যাবার ভয় থাকবেনা, যে-ই মানুষটা কখনো ছেড়ে যাবেনা, সেই মানুষটা আমাদের হোক। সেই মানুষটা শুধু আমাদের জীবনসঙ্গী না, আমাদের প্রাণের সঙ্গীও হোক।___💞 -এই পৃথিবীতে সবার একজন সৎ মনের মানুষ হোক! সেই মানুষটার সাথে শুধু এই জীবন না, জান্নাতেও যেনো একসাথে থাকতে প...

সবার আগে কারা জাহান্নামে যাবে!

মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা অতিশয় দয়ালু। ভীষণ ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহপরায়ণ। একই সঙ্গে তিনি মন্দ কাজের কঠোর শাস্তিদাতাও। কেউ অন্যায় করলে তাকে শাস্তি দেন। তবে যদি গুনাহগার ও অন্যায়কারী নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নেয় তাহলে ভিন্ন কথা। সাধারণত প্রতিটি মানুষই গুনাহ করে। কেউ বেশি, আবার কেউ কম। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ অনেক সময় আল্লাহকর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজ করে ফেলে। কিন্তু একজন মুসলিম গুনাহ করে তাওবা করবে- এটিই স্বাভাবিক। আল্লামা ইবনে কাইয়্যুম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, যে গুনাহ করে সে মানুষ। যে গুনাহ করে তার ওপর অটল অবস্থানে থাকে সে শয়তান। আর যে গুনাহ থেকে তাওবা করে, সে হলো মুমিন।  মানুষ যখন আমল করে— তখন তার সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ত বা উদ্দেশ্যের প্রশ্ন চলে আসে। সে কী আল্লাহর জন্য ইবাদত করছে— নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করছে; সেটি ঠিক করার পরেই ইবাদাত কবুল হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায়। মানুষ যদি নিজের আমলকেই বড় মনে করতে থাকে অথবা লোক-দেখানো উদ্দেশ্যে সালাত, জাকাত আদায়, ইলম বা জ্ঞান অর্জন ও জিহাদ করে, তাহলে সেটি দয়াময় আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন না। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে ...

কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের কারা স্থান পাবে?

আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন যারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যাতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। সূর্য মাথার একেবারে উপরে অবস্থান করবে। সেদিন মানুষ দলে দলে বিভক্ত হবে। তাদের নিজেদের ঘামের সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকবে। কিন্তু এই কঠিন দিনেও কিছু মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়া পাবে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন— যেদিন তার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না;  ১. ন্যায় পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা),  ২. এমন যুবক যার যৌবন আল্লাহ তাআলার ইবাদতে অতিবাহিত হয়,  ৩. যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে (মসজিদের প্রতি তার মন সদা আকৃষ্ট থাকে।)  ৪. ওই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়।  ৫. সেই ব্যক্তি যাকে কোনো সুন্দরী (ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে) আহ্বান করে, কিন্তু সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।’  ৬. সেই ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কি দান করে, তা তার বাম হ...

কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না!

 যে তিন ব্যক্তির সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না ‘তিন ব্যক্তির সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ...তারা হলো— ১. যে ব্যক্তি পরিধেয় কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে!  ২. যে ব্যক্তি উপকার করার পর খোঁটা দেয় এবং  ৩. যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য চালায়।’  (মুসলিম, হাদিস : ১০৬) মানুষের উপকার করার প্রবণতা একটি মহৎ গুণ। যারা অন্যের উপকার করে হাদিসের ভাষায় তাদের শ্রেষ্ঠ মানুষ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।’ (আল মুজামতুল আউসাত, হাদিস : ৫৭৮৭) এই কাজের পুরস্কারও অনেক বড়। দুনিয়াতে মানুষের সংকট দূর করার পুরস্কারস্বরূপ মহান আল্লাহ সে উপকারকারীর আখিরাতের সংকটগুলো দূর করে দেবেন। যেখানে হাজার দুনিয়ার বিনিময়ের বিনিময়েও একটি নেকি কেনা যাবে না। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি সংকটগুলো থেকে একটি সংকট মোচন করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার আখিরাতের সংকটগুলোর একটি সংকট মোচন করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভ...
 "ফজরের_সালাতের_১০টি_ফজিলত:- এগুলো জানার পর কারো আর ফজর সালাতে গাফেলতি, অলসতা আসবেনা... ইনশাআল্লাহ। 🔘১.ফজরের সালাত মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্যকারী, কেননা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের জন্য ফজর সালাত আদায় কষ্টকর! __(বুখারী ৬৫৭,৬৪৪,২৪২০,৭২২৪; মুসলিম ৬৬১) 🔘২.রাসূল (সাঃ) বলেন, "যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে, সে ব্যক্তি ঐ দিন আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়। অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির দায়িত্ব নেন। __(সহিহ মুসলিম, তিরমিজি ২১৮৪) 🔘৩.রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করবে, আল্লাহর ফেরেশতাগন আল্লাহর কাছে ঐ ব্যক্তিকে ভালো মানুষ হিসেবে সাক্ষী দিবে। __(বুখারী-মুসলিম) 🔘৪. রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,  "যে ব্যক্তি ফজর সালাত জামাতের সাথে আদায় করে, আল্লাহ তাআলা তার আমলে দাঁড়িয়ে সারারাত নফল নামাজ আদায়ের সওয়াব দিয়ে দেন! __(সহিহ মুসলিম-১০৯৬) 🔘৫. রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ভোরে হেঁটে হেঁটে ফজরের সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার জন্য পরিপূর্ণ আলো দান করবেন। __(আবু দাউদ ৪৯৪)...

গুনাহ মোচনের জন্য তওবার পরও কিছু নির্ধারিত ও স্থিতিশীল কাজ

 গুনাহ মোচনের জন্য তওবার পরও কিছু নির্ধারিত ও স্থিতিশীল কাজ ১. তওবাসহ যাবতীয় কাজকর্মে নিয়ত খালেস করা। কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘আল্লাহ তা‘আলা খালেস আমল কিংবা তাকে উদ্দেশ্য করা আমল ছাড়া কিছুই কবুল করেন না।’ ২. তওবাকারী তওবার পরও যথাসম্ভব স্থিতিশীলভাবে আমালে সালিহা করে যাবে। সর্বদা সৎকর্মের প্রাধান্য দেবে ও অসৎকর্ম পরিহার করবে। আল্লাহ বলেন: ‘নিশ্চয় সৎকর্ম অসৎকর্মকে বিদূরিত করে।[সূরা হুদ: ১১৪।] আল্লাহর নবী মু‘আয ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-কে ইয়ামেনে প্রেরণকালে নসিহতস্বরূপ বলেছিলেন: ‘হে মু‘আয! যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো, একটা গোনাহর কাজ করে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে একটা নেক কাজ করে ফেলো। তাহলে তা ওই কৃত গোনাহকে মোচন করে দেবে। মানুষের স্রষ্টার সাথে সদাচার কর।’ আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন: “প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই লোক, যে সর্বদা এমনসব সৎকাজ করে যা তার গুনাহ মোচন করে ফেলে।’ ৩. গোনাহর অনিষ্টতা উপলব্ধি, এর দ্বারা দুনিয়া আখিরাতের ক্ষতি অনুধাবন করা। ৪. যেখানে গোনাহ-চর্চা হয়, সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলা, যাতে ওইস্থানে গোনাহে লিপ্ত হবার সমূহ সম্ভা...

স্বামীর খেদমত করে, খুশী করা ব্যতীত কোন স্ত্রী জান্নাতে যেতে পারবেন নাঃ-

 🌹স্বামীর খেদমত করে স্বামীকে খুশি করা ব্যতীত কোনো স্ত্রী জান্নাত লাভ করতে পারবে না। স্বামীকে অসন্তুষ্ট রেখে কোনো নারী আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না। নিম্নে এ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করা হলো।  . তিরমিযী শরীফে আছে, হযরত উম্মে সালমা রাযি. বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে মহিলা এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে, তার স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।  (তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-১১৬১) . রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিরাজের রাতে জাহান্নামে এক মহিলাকে দেখলেন যে, তাকে তার জিহবার দ্বারা ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে (অর্থাৎ তার জিহবা টেনে বের করে, সে জিহবার সাথে বেঁধে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে) তার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  জিবরাঈল আ.কে জিজ্ঞাসা করলেন। এ মহিলাকে কী কারণে এ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? জিবরাঈল আ. বললেন, এই মহিলাটি তার স্বামীর সাথে অশ্লীল ভাষায় কথা বলতো এবং  সে তার স্বামীকে কষ্ট দিতো ।  . অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখনই কোনো স্ত্রীলোক দুনিয়াতে ত...

ইস্তিগফার কিভাবে করতে হয়?

 ইস্তিগফার কি? ইস্তিগফার কিভাবে করতে হয়?? এবং ইস্তিগফারের ১৭ টি উপকারিতা।  ➖➖➖➖➖➖🕳️🕳️🕳️🕳️➖➖➖➖➖➖ ইস্তিগফার হলো, আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, "আল্লাহর ক্বসম! আমি দিনের মধ্যে ৭০ বারেরও অধিক ইস্তিগফার করি (আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই) এবং তাওবাহ করি।" (বুখারী ৫/২৩২৪) ইস্তিগফার কীভাবে করবো? ইস্তিগফার যে কোন শব্দেই করা যায়। এমনকি "ইয়া আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন!" বলে দুয়া করলেও হবে। তবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে বাক্যে ইস্তিগফার করেছেন, সে বাক্যে ক্ষমা চাওয়া নিঃসন্দেহে অতি উত্তম! নিম্নে হাদীসে বর্নিত কিছু ইস্তিগফার দেয়া হলো! মুখস্থ করে নিতে পারেন। 1- ﺃﺳﺘﻐﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ (আস্তাগফিরুল্লাহ)। শুধু আস্তাগফিরুল্লাহ বলা। "রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাজ শেষে ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন।" (মুসনাদে আহমদ- ২২৪০৮) 2- ﺃﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ ﺍﻟﻌَﻈِﻴﻢَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻻَ ﺇﻟَﻪَ ﺇﻻَّ ﻫُﻮَ، ﺍﻟﺤَﻲُّ ﺍﻟﻘَﻴُّﻮﻡُ، ﻭَﺃﺗُﻮﺏُ ﺇﻟَﻴﻪِ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি এই দু‘আ পাঠ করবেঃ আসত...

কুরআন তিলাওয়াত এর আদব

 কোরআন তিলাওয়াতের আদব ও শিষ্টাচার কোরআন অন্য কোনো বইয়ের মতো নয়। কোরআন পাঠ করতে হয় যথাযথ ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আদব সহকারে। নিম্নে এর আদবগুলো উল্লেখ করা হলো— প্রথম আদব : নিয়ত শুদ্ধ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির মানুষের ওপর আগুনের শাস্তি কঠোর করা হবে বলে জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ওই কারি, যিনি ইখলাসের সঙ্গে কোরআন তিলাওয়াত করতেন না। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৮২; সহিহ ইবন হিব্বান, হাদিস : ৪০৮) দ্বিতীয় আদব : পবিত্র হয়ে অজু অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াত করা। অজু ছাড়াও কোরআন পড়া যাবে, তবে তা অজু অবস্থায় পড়ার সমান হতে  পারে না। তৃতীয় আদব : কোরআন তিলাওয়াতের আগে মিসওয়াক করা। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের মুখগুলো কোরআনের পথ। তাই সেগুলোকে মিসওয়াক দ্বারা সুরভিত করো।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৯১) চতুর্থ আদব : তিলাওয়াতের শুরুতে আউজুবিল্লাহ পড়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘সুতরাং যখন তুমি কোরআন পড়বে, তখন আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাও।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৮) পঞ্চম আদব : বিসমিল্লাহ পড়া। তিলাওয়াতকারীর উচিত সুরা তাওবা ছাড়া সব সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া। রাসুলুল্লাহ...

ইসলামের সাথে ইমানের সম্পর্ক খুবই নিবিড়

 ইসলামের সাথে ইমানের সম্পর্ক খুবই নিবিড় ইসলামের মূল বিষয়গুলো প্রতি বিশ্বাস কে ঈমান বলে। প্রকৃত অর্থে আল্লাহতালা, নবী রাসুল, ফেরেশতা, আসমানী কিতাব, আখিরাত, তাকদিরে বিষয়গুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা ও তদনুযায়ী আমল করা কে ইমান বলে। ইসলামের এই সাতটি বিষয়ের কোন একটি ওপর পড়ে থাকলে ঈমান সম্পন্ন হবে না। ‌ তাই বলা যায়, ইসলামের সাথে ঈমানের সম্পর্ক খুবই নিবিড় আল্লাহ্‌ তায়ালা মানজাতির হিদায়তের জন্য বহু নবি-রাসুল দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ “আর প্রত্যেক জাতির জন্য পথপ্রদর্শক রয়েছে”। (সূরা আর-রা’দ ১৩ , আয়াত ৭) কুরআন মাজিদে ২৫ জন নবি-রাসুলের নাম রয়েছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নবি-রাসুলের সংখ্যা লক্ষাধিক। নবি ও রাসুল অর্থের দিক থেকে দুইটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যেমনঃ যাদের উপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে তাদেরকে রাসুল বলা হয় যাদের উপর আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়নি এবং পূর্ববর্তী রাসুলের উপর যে আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে সেই কিতাবের অনুসরণ করে মানুষদের হেদায়াত করেছেন তাদেরকে নবী বলা হয়। প্রত্যেক রাসুলই নবি ছিলেন কিন্তু প্রত্যেক নবি রাসু...

আহকামে ওজু তথা ওজুর ফরজসমূহ

Image
 পবিত্রতা অর্জনকে আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন। ইবাদত-বন্দেগিতে পবিত্রতা অর্জনের গুরুত্ব অধ্যধিক। ক্ষেত্র বিশেষে তা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মুস্তাহাব হয়ে থাকে। দৈনন্দিন জীবনে যারা নামাজসহ ইবাদত-বন্দেগি করে তাদের জন্য ওজু করা ফরজ। ওজুর ফরজগুলো কি কি, এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা কি বলেছেন তা তুলে ধরা হলো-ওজু কি?ওজু শব্দটি আরবি। এর অর্থ হচ্ছে- সুন্দর, পরিস্কার, স্বচ্ছ। শরিয়তের পরিভাষায় নির্ধারিত নিয়মে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ওজু বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বান্দার নামাজের জন্য ওজুকে ফরজ করেছেন।আল্লাহ বলেন,উচ্চারণ- ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু ইজা কুমতুম ইলাস সালাতি ফাগসিলু ওঝুহাকুম ওয়া আইদিয়াকুম ইলাল মারাফিক্বি ওয়ামসাহু বিরুউসিকুম ওয়ারঝুলাকুম ইলাল কা’বাইন। (সূরা মায়িদা : আয়াত ৬)অর্থ- হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা সালাত বা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা মুখমণ্ডল ও উভয় হাত  কনুইসহ ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করবে।উক্ত আয়াতের কারিমা দ্বারা বুঝা গেল নামাজের জন্য ওজু শর্ত। যখন কোনো ব্যক্তি নামাজের ইচ্ছা পোষণ করবে, প্রথমে তাকে ওজু করতে হবে। আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াত দ্বারা ওজুকে ...

নামাজের ভিতরে-বাইরে ১৩টি ফরজ

Image
 নামায ইসলামের পঞ্চমস্তম্ভের একটি। শাহাদাহ্‌ বা বিশ্বাসের পর নামাযই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নামাজ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে বার বার নামাজের তাগিদ পেয়েছেন। কুরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজকে ঈমানের পর স্থান দিয়েছেন।  নামাজের ভিতরে ও বাইরে মোট ১৩টি ফরজ (অবশ্য পালনীয়) কাজ রয়েছে। এখানে তা তুলে ধরা হলো- নামাজের ভিতরে সাতটি ফরজ: ১. তাকবিরে তাহরিমা : আল্লাহর মহত্ত্ব প্রকাশ পায় এমন শব্দ দ্বারা নামাজ আরম্ভ করা ফরজ। আর তা হচ্ছে তাকবিরে তাহরিমা তথা আল্লাহু আকবার। যা দ্বারা নামাজের বাহিরের সব ধরণের কাজকে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন- তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। (সুরা মুদদাসসির : আয়াত ৩) ২. কিয়াম করা : নামাজের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়ানো। আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াবে। (সুরা বাক্বারা : আয়াত ২৩৮) ৩. কিরাত পড়া : সুরা ফাতিহার পর সুরা মিলানো। ফরজ নামাজের প্...

বড় বড় বিজ্ঞানীরা কখনও নাস্তিক হয় না।

Image
 

সূরা মূলক এর ফজিলত

 সূরা মূলকের তিলাওয়াত  ফজিলত কি??? 🔸সূরা মূলক-এর ফজিলত :🔹⬇ হযরত উসমান (রাঃ) যখন কবরের ধার দিয়া যাইতেন তখন কান্নায় উনার দাড়ি ও বুক ভাসিয়া যাইত। লোকে জিজ্ঞাসা করিত ,।আপনি জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনাও এত বেশী কান্নাকাটি করেন না, এর কারণ কি ? তিনি বলেন, আমি হুজুর (সাঃ) এর নিকট শুনিয়াছি কবর আখেরাতের প্রথম মন্জিল। যে ব্যক্তি এখানে নাজাত পাইল, তাহার জন্য সমস্ত মন্জিল আছান বা সহজ । আরো শুনিয়াছি কবর হইতে ভয়ংকর দৃশ্য আমি আর কোথাও দেখি নাই। যে ব্যক্তি নিয়মিত সুরা মূলকের আমল করবে সে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাবে। (তিরমিজি-২৮৯০, মুসতাদরাকে হাকেম)। 🔸★হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; " কোরআন শরীফে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে না দেয়া পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হলো-- তাবারাকাল্লাযী বি ইয়াদিহিল মূলক অর্থাৎ সূরা মূলক…। (আবু দাউদ-১৪০২, তিরমিজি-২৮৯১, ইবনে মাজাহ-৩৭৮৬, মুসনাদে আহমদ-২/২৯৯)। 🔹অন্য এক হাদিসে ; রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন," আমার মন চায় প্রত্যেক মুমিনের...