Posts

সবার আগে কারা জাহান্নামে যাবে!

মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা অতিশয় দয়ালু। ভীষণ ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহপরায়ণ। একই সঙ্গে তিনি মন্দ কাজের কঠোর শাস্তিদাতাও। কেউ অন্যায় করলে তাকে শাস্তি দেন। তবে যদি গুনাহগার ও অন্যায়কারী নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নেয় তাহলে ভিন্ন কথা। সাধারণত প্রতিটি মানুষই গুনাহ করে। কেউ বেশি, আবার কেউ কম। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ অনেক সময় আল্লাহকর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজ করে ফেলে। কিন্তু একজন মুসলিম গুনাহ করে তাওবা করবে- এটিই স্বাভাবিক। আল্লামা ইবনে কাইয়্যুম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, যে গুনাহ করে সে মানুষ। যে গুনাহ করে তার ওপর অটল অবস্থানে থাকে সে শয়তান। আর যে গুনাহ থেকে তাওবা করে, সে হলো মুমিন।  মানুষ যখন আমল করে— তখন তার সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ত বা উদ্দেশ্যের প্রশ্ন চলে আসে। সে কী আল্লাহর জন্য ইবাদত করছে— নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করছে; সেটি ঠিক করার পরেই ইবাদাত কবুল হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায়। মানুষ যদি নিজের আমলকেই বড় মনে করতে থাকে অথবা লোক-দেখানো উদ্দেশ্যে সালাত, জাকাত আদায়, ইলম বা জ্ঞান অর্জন ও জিহাদ করে, তাহলে সেটি দয়াময় আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন না। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে ...

কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের কারা স্থান পাবে?

আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন যারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যাতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। সূর্য মাথার একেবারে উপরে অবস্থান করবে। সেদিন মানুষ দলে দলে বিভক্ত হবে। তাদের নিজেদের ঘামের সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকবে। কিন্তু এই কঠিন দিনেও কিছু মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়া পাবে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন— যেদিন তার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না;  ১. ন্যায় পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা),  ২. এমন যুবক যার যৌবন আল্লাহ তাআলার ইবাদতে অতিবাহিত হয়,  ৩. যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে (মসজিদের প্রতি তার মন সদা আকৃষ্ট থাকে।)  ৪. ওই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়।  ৫. সেই ব্যক্তি যাকে কোনো সুন্দরী (ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে) আহ্বান করে, কিন্তু সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।’  ৬. সেই ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কি দান করে, তা তার বাম হ...

কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না!

 যে তিন ব্যক্তির সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না ‘তিন ব্যক্তির সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ...তারা হলো— ১. যে ব্যক্তি পরিধেয় কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে!  ২. যে ব্যক্তি উপকার করার পর খোঁটা দেয় এবং  ৩. যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য চালায়।’  (মুসলিম, হাদিস : ১০৬) মানুষের উপকার করার প্রবণতা একটি মহৎ গুণ। যারা অন্যের উপকার করে হাদিসের ভাষায় তাদের শ্রেষ্ঠ মানুষ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।’ (আল মুজামতুল আউসাত, হাদিস : ৫৭৮৭) এই কাজের পুরস্কারও অনেক বড়। দুনিয়াতে মানুষের সংকট দূর করার পুরস্কারস্বরূপ মহান আল্লাহ সে উপকারকারীর আখিরাতের সংকটগুলো দূর করে দেবেন। যেখানে হাজার দুনিয়ার বিনিময়ের বিনিময়েও একটি নেকি কেনা যাবে না। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি সংকটগুলো থেকে একটি সংকট মোচন করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার আখিরাতের সংকটগুলোর একটি সংকট মোচন করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভ...
 "ফজরের_সালাতের_১০টি_ফজিলত:- এগুলো জানার পর কারো আর ফজর সালাতে গাফেলতি, অলসতা আসবেনা... ইনশাআল্লাহ। 🔘১.ফজরের সালাত মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্যকারী, কেননা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের জন্য ফজর সালাত আদায় কষ্টকর! __(বুখারী ৬৫৭,৬৪৪,২৪২০,৭২২৪; মুসলিম ৬৬১) 🔘২.রাসূল (সাঃ) বলেন, "যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে, সে ব্যক্তি ঐ দিন আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়। অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির দায়িত্ব নেন। __(সহিহ মুসলিম, তিরমিজি ২১৮৪) 🔘৩.রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করবে, আল্লাহর ফেরেশতাগন আল্লাহর কাছে ঐ ব্যক্তিকে ভালো মানুষ হিসেবে সাক্ষী দিবে। __(বুখারী-মুসলিম) 🔘৪. রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,  "যে ব্যক্তি ফজর সালাত জামাতের সাথে আদায় করে, আল্লাহ তাআলা তার আমলে দাঁড়িয়ে সারারাত নফল নামাজ আদায়ের সওয়াব দিয়ে দেন! __(সহিহ মুসলিম-১০৯৬) 🔘৫. রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ভোরে হেঁটে হেঁটে ফজরের সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার জন্য পরিপূর্ণ আলো দান করবেন। __(আবু দাউদ ৪৯৪)...

গুনাহ মোচনের জন্য তওবার পরও কিছু নির্ধারিত ও স্থিতিশীল কাজ

 গুনাহ মোচনের জন্য তওবার পরও কিছু নির্ধারিত ও স্থিতিশীল কাজ ১. তওবাসহ যাবতীয় কাজকর্মে নিয়ত খালেস করা। কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘আল্লাহ তা‘আলা খালেস আমল কিংবা তাকে উদ্দেশ্য করা আমল ছাড়া কিছুই কবুল করেন না।’ ২. তওবাকারী তওবার পরও যথাসম্ভব স্থিতিশীলভাবে আমালে সালিহা করে যাবে। সর্বদা সৎকর্মের প্রাধান্য দেবে ও অসৎকর্ম পরিহার করবে। আল্লাহ বলেন: ‘নিশ্চয় সৎকর্ম অসৎকর্মকে বিদূরিত করে।[সূরা হুদ: ১১৪।] আল্লাহর নবী মু‘আয ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-কে ইয়ামেনে প্রেরণকালে নসিহতস্বরূপ বলেছিলেন: ‘হে মু‘আয! যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো, একটা গোনাহর কাজ করে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে একটা নেক কাজ করে ফেলো। তাহলে তা ওই কৃত গোনাহকে মোচন করে দেবে। মানুষের স্রষ্টার সাথে সদাচার কর।’ আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন: “প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই লোক, যে সর্বদা এমনসব সৎকাজ করে যা তার গুনাহ মোচন করে ফেলে।’ ৩. গোনাহর অনিষ্টতা উপলব্ধি, এর দ্বারা দুনিয়া আখিরাতের ক্ষতি অনুধাবন করা। ৪. যেখানে গোনাহ-চর্চা হয়, সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলা, যাতে ওইস্থানে গোনাহে লিপ্ত হবার সমূহ সম্ভা...

স্বামীর খেদমত করে, খুশী করা ব্যতীত কোন স্ত্রী জান্নাতে যেতে পারবেন নাঃ-

 🌹স্বামীর খেদমত করে স্বামীকে খুশি করা ব্যতীত কোনো স্ত্রী জান্নাত লাভ করতে পারবে না। স্বামীকে অসন্তুষ্ট রেখে কোনো নারী আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না। নিম্নে এ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করা হলো।  . তিরমিযী শরীফে আছে, হযরত উম্মে সালমা রাযি. বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে মহিলা এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে, তার স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।  (তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-১১৬১) . রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিরাজের রাতে জাহান্নামে এক মহিলাকে দেখলেন যে, তাকে তার জিহবার দ্বারা ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে (অর্থাৎ তার জিহবা টেনে বের করে, সে জিহবার সাথে বেঁধে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে) তার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  জিবরাঈল আ.কে জিজ্ঞাসা করলেন। এ মহিলাকে কী কারণে এ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? জিবরাঈল আ. বললেন, এই মহিলাটি তার স্বামীর সাথে অশ্লীল ভাষায় কথা বলতো এবং  সে তার স্বামীকে কষ্ট দিতো ।  . অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখনই কোনো স্ত্রীলোক দুনিয়াতে ত...

ইস্তিগফার কিভাবে করতে হয়?

 ইস্তিগফার কি? ইস্তিগফার কিভাবে করতে হয়?? এবং ইস্তিগফারের ১৭ টি উপকারিতা।  ➖➖➖➖➖➖🕳️🕳️🕳️🕳️➖➖➖➖➖➖ ইস্তিগফার হলো, আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, "আল্লাহর ক্বসম! আমি দিনের মধ্যে ৭০ বারেরও অধিক ইস্তিগফার করি (আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই) এবং তাওবাহ করি।" (বুখারী ৫/২৩২৪) ইস্তিগফার কীভাবে করবো? ইস্তিগফার যে কোন শব্দেই করা যায়। এমনকি "ইয়া আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন!" বলে দুয়া করলেও হবে। তবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে বাক্যে ইস্তিগফার করেছেন, সে বাক্যে ক্ষমা চাওয়া নিঃসন্দেহে অতি উত্তম! নিম্নে হাদীসে বর্নিত কিছু ইস্তিগফার দেয়া হলো! মুখস্থ করে নিতে পারেন। 1- ﺃﺳﺘﻐﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ (আস্তাগফিরুল্লাহ)। শুধু আস্তাগফিরুল্লাহ বলা। "রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাজ শেষে ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন।" (মুসনাদে আহমদ- ২২৪০৮) 2- ﺃﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ ﺍﻟﻌَﻈِﻴﻢَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻻَ ﺇﻟَﻪَ ﺇﻻَّ ﻫُﻮَ، ﺍﻟﺤَﻲُّ ﺍﻟﻘَﻴُّﻮﻡُ، ﻭَﺃﺗُﻮﺏُ ﺇﻟَﻴﻪِ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি এই দু‘আ পাঠ করবেঃ আসত...